কবি পঙ্কজ মান্না
পঙ্কজ মান্না
জন্ম:- ১৯৫১ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে কদমডিহা গ্ৰাম।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক।
সরকারি চাকরি শেষে এখন অবসরপ্রাপ্ত।বর্তমানে কলকাতাবাসী।কবিতার সাথে বসবাস ও সহবাস বিগত প্রায় ৫০ বছর।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৯ টি।শেষ প্রকাশিত "আলোপাখি" কাব্যগ্ৰন্থ ১৪২৮ সালের পয়লা বৈশাখ।প্রকাশক- কবিপত্র প্রকাশ।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি পঙ্কজ মান্না
স্মৃতি--৩৭
শিবের শিষ্যেরা সব কাম-পোড়া ছাই মেখে
শিবনেত্র বসেছে শ্মশানে ;
চৈত্রের বুকে কি আজ পাতা ঝরানোর ব্যথা
থেকে থেকে অভিমান বেজে ওঠে কাঙালের মতো!
আমি তো গাজন-চ্যালা ঘটি ঘটি জল ঢালি শিবের মাথায়...
এক চোখ নিভে গেছে জন্মকালে মায়ের দয়ায়
আর চোখে জীবনের অলিগলি অভিসন্ধি পানিপথ কতদূর দেখা যায়,বলো মহেশ্বর...!
শবর পাড়ায় জনজাতি সন্ধ্যা নামে
যেন দ্রৌপদী সোরেন দিনের ক্লান্তি ধুয়ে খুলে দিল
দশ-হাত মেঘ-মেঘ চুল
আমার যে ভুল হয় ...ভুল বিলকুল ,
তৃষ্ণার জল চেয়ে কাছে গেলে ফোঁস করে
মেঘ চমকায় ,
সন্ধ্যা আসে তমাল নদীর মতো,শ্বাস পড়ে গায়
তৃষ্ণা বাড়ে...
সন্ধ্যা যেন ছায়া-ছায়া কর্পুর আঁধারে হারায়
কে জানে কীসের ধ্যানে
গাজন-সন্ন্যাসী সব কাম-পোড়া ছাই মেখে শিবনেত্র বসেছে শ্মশানে ...!
আমি তো গাজন-চ্যালা ঘটি ঘটি জল ঢালি শিবের মাথায় ...
স্মৃতি--৩৬
মালতী-হলুদ সাজে সেজদিদি অবিকল পুবের আকাশ
আমাদের কররেখা নীল ও লোহিত নদী চন্ডীমন্ডপ ছেড়ে মামাবাড়ি দীঘিতে হারায় ;
আমি ও বিভাদি যেন সাঁতরেই পার হই সহজপাঠের আলো রোদছায়া অমল শৈশব...
কাশবনে ভুলোমন আমরা দু'জন..
অমরতা ছোঁয়ার খেলায় মুখে দিই বুনো কুল
বিশ বাও ডুবে আছি সুখে
এখানে ঘুমোয় রাত মেঘছায়া পুবালি বাতাস,
বাসনা দিদির মতো গোল-মুখ,একা একা কথা বলে কোজাগরী চাঁদ ...
মালতী-সুবাস বেয়ে আমি ও বিভাদি পাখি
ডানা মেলে ঘুরে আসি পিসিদের বাড়ি ,
পথ যেন আঁকাবাঁকা অন্তহীন সিঁড়ি-ভাঙা
অঙ্কের মতন ...
ওই যে বকুলগাছে রোদে-ভেজা দাঁড়কাক ঢুলে পড়ে ঘুমে ...
দেখ দিদি,
মনে হয় কুঁজো মতো বেরসিক নরেশ-মাস্টার,
এখুনি ধরবে পড়া...ধারাপাত
সাতের নামতা ঘরে পড়ি যদি নির্ঘাত হোঁচট
ছোট... ছোট...
আমরা যে ভুলোমন
মালতী-হলুদ সাজে পথভোলা পুবের আকাশ
জানে বৃদ্ধ বট
হঠাৎ যদি পথ খোয়া যায় রথের চাকা বসে
অপরাজিতার নীল কামিজও অতর্কিতে খসে
তপ্তবেলা হঠাৎ যদি কানুর শ্যামলছায়া
তোমার মনে জাগায় ঘন দূরপিপাসার মায়া
তোমার নাচের মুদ্রাগুলি শ্যামের পুজোর ফুল
জীবন যদি এক সকালে ফোটায় বিষের হুল
কে যে কাকে রিক্ত করে , পূর্ণ করে ঘট...!
এসব কী আর সবাই বোঝে..! জানে বৃদ্ধ বট
হঠাৎ যদি ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমের ভেতর ঘরে
নীলতিয়াসী একলা মানুষ হারাই চরাচরে
আমি এবং ভেতর আমি এক বাঁধনে থাকা...
চাঁদ উঠেছে আঁধার চিরে শ্যামের মতো বাঁকা
Comments
Post a Comment