কবি উমাপদ কর
উমাপদ কর
জন্ম:-১৯৫৫,বহরমপুর,মুর্শিদাবাদ।বর্তমানে কলকাতাবাসী।ফিজিক্সে সাম্মানিকসহ স্নাতক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারী ও আধিকারিক ছিলেন। যৌথসম্পাদনা:‘শ্রাবস্তী’,কর্মী:‘রৌরব’ইত্যাদিলিটিল ম্যাগাজিন। অল্পদিনের জন্য হলেও একসময় পারফর্মিং আর্টের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। নাটক, থিয়েটার, আবৃত্তি, ভাবনাট্য, নৃত্যনাট্য; অংশগ্রহণ করতেন বিতর্ক, সেমিনার, অপূর্বপরিকল্পিত ভাষণ ইত্যাদিতে। কবিতার টানে একসময় নিজেই এসব বন্ধ করে দেন। মূলত কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য লেখেন। সামান্য গল্প ও অন্য গদ্য। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ঋতুপর্বের নাচ, কয়েক আলোকবর্ষ দূরে, পরিযায়ী চলো, ভাঙা পিয়ানোর পা, অপর বসন্ত, ধনুক কথায় স্বর, নদীতে সায়ং ভেসে যায়, নৈর্ঋতে বিষুবে, নামিয়ে রাখা চোখ, আনারকলির তানপুরা, শিরোনামহীন পুতুল। দীর্ঘ কবিতার সংকলন, বালুমানুষের ঝুনঝুনাৎ। প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ: রিলেদৌড়ের অনিঃশেষ, রবীন্দ্রকবিতাঃ আজকের উঠোনে, আবহমান পাঠঃ তেরো আকাশ। ভালবাসেন ঘুরতে, থিয়েটার দেখতে, গান শুনতে, চিনে বাদাম খেতে, ছোট মাছ খেতে, বন্ধুদের সঙ্গে দেদার আড্ডা সপান। মনে করেন কবিতাই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে শত বিয়োগেও।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি উমাপদ কর
সাপ
পিত্তথলি থেকে এই নিঃসরণ সে আমার নয়
সংসারে গিনিপিগ-সং সাজার কোনো মানেই হয় না
হোমিওপ্যাথির শিশিগুলো তবু তাকে সাজিয়ে রাখি
ওরাও হেসে ওঠে কাতুকুতু খেয়ে,
আমার হাত এত্ত নরম আর এতই স্পর্শকাতর ওদের দেহ!
লজেন্জুসবেলার মাথায় সাপের মুকুট পরাও সামান্য সুযোগে
গাল বেয়ে মাথা বেয়ে পেট-পিঠ বেয়ে পোষা সাপ
ডুগডুগির চোখে চোখ রেখে নামতে থাকে
সাপ তো সবাই পোষে, নামটি শুধু সাপুড়ের,
দুধ-কলা সবারই ঝোলায়, বড়োজোর তুতুরী বাজাতে পারে না
নানা ইঙ্গিতে সাজানো বিকেলগুলো আমার জন্য প্রসাধনী সাজিয়ে রেখেছে
মনে হয় সং সাজি, সাপকেও সাজাই
সং-এর বাজারে— জাস্ট ভাবা যায় না
রৌশন, সব বাজি ধরা খদ্দের, দেখতে উদাস চোখে লালা
একবার আমাকে ও সাপকে দেখুক হাজার খদ্দেরহাত
আমি পণ্য হয়ে যেতে যেতে পিত্তথলির নিঃসরণের কথা বেমালুম ভুলে যাই
ভুলে যাই শিশিদের কথা আর একটা সাপ লেজে খেলতে থাকে
আমারই অন্দরে
ভয়
অনেকটা আতর হয়ে উঠেছে মনটা
ছড়িয়ে ছিটিয়ে চিল্কিয়ে যাচ্ছি পোশাকঝিলিকে
খুশি খুশি, খুশির বানভাসি সাধারণ—
আমাকে ‘অসাধারণ অসাধারণ’ বলতে বলতে
মাথা ঝুঁকিয়ে চলেছে পিঁপড়ের সারি
এসবের কিছুই জানি না
আমার শুধুই হেঁটে যাওয়া অগম্যে, গোবিন্দপুরও বলা যায়
নজর না-কাড়া হাসির সঙ্গে ভয়প্যাঁচানো আগাগোড়া ছাতা এক
জড়িমার শীত-শীত লাগা ভাবে স্টিলের চোখ
সবাই এত প্রীত কেন তবে, কেন মাথা নামে ঘাড় বেয়ে না-নামার দেশে!
আমাকে ভীষণভাবে পড়ছে সবাই, গিলে খাচ্ছে চোখের মণি
নিশ্চয়ই কিছু এমন দেখেছে
সাপ কিংবা সর্পগন্ধা, প্রেত অথবা প্রমিথিউস
যাতে কেঁপে ওঠা ছাড়া গতিক নেই
আমি এটাকেই র্যালিশ করছি ভীষণভাবে
যদিও ভেতরে ভেতরে আমি ঘেমে নেয়ে উঠছিলাম
চিহ্নবিন্দু
ছলনাগুলোকে গ্রাফ-পেপারে বিন্দু বিন্দু বসাই
বাঁকা হোক সরল হোক একটা রেখা চেষ্টা
মোহে মশগুল না উপভোগ নেশায়, বুঝি না
কিছুই কি হয়? নাকি শুধুই একটা জিরাফের গলা পেঁচিয়ে ওঠে
পেপারের চৌকো কাঁটাগুলো চিবোয়
টপটপ রক্ত পড়ে আরও কিছু বিন্দুচিহ্ন
জুড়ে দিয়ে কী যে পাব! পালটে নেওয়া লালকলম জানে না
জানে, লিলিপুট চৌখুপির ছোট্ট জীবন
তারও একটা জায়গা হয়ে যাবে যে কোনো শর্তে
ঘুরিয়ে দেখি ফিরিয়ে মাপি নীল জিরাফের গলা
বাঘের লালজিভ হাঁফায় ও দাঁত ছুরি সমান
আমার পানকৌড়িঠোঁটে যত বাতিল ভাবনা কাগজে ধরে না
পেপারের লম্ব তার ভূমিকে ছুঁতে যতটা সময় নেয়
আমি তার ভগ্নাংশ সময়ে ছলনাগ্রাফে বিন্দু খুঁজে নিই
Comments
Post a Comment