কবি রমেশ পাত্র


রমেশ পাত্র

জন্মঃ১৬ই ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪, দক্ষিণ ২৪পরগনার নামখানা ব্লক।রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থ "নদী ও বৈষ্ণবী"। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি পূর্ণ নারী হয়ে ওঠে। কখনো জীবন-বাসনা আবার কখনো সাধনোত্তীর্ণ সত্বায় কবি তাঁর প্রিয় নারীকে খোঁজেন। গতানুগতিক ছক থেকে বেরিয়ে এসে অভিনব এক কাব্যভাষায় মূর্ত তাঁর কবিতা।

গুচ্ছ কবিতায় কবি রমেশ পাত্র









মুঠো ভর্তি রোদ 

  

যখন অবসর আসে তোমাকে খুলে খুলে দেখি

আঙুলের উষ্ণ বৃষ্টিতে ভেজাতে থাকি স্মৃতি 

এখন তুমি পালকের মতো হালকা হাওয়া 

জানালা খুললেই ঢুকে পড়ো ঘরে 


মনে পড়ে এক তীব্র রোদের দিনে তুমি 

রোদচশমা দিয়ে খুঁটে তুলছিলে ভাঙারোদ

আর সেগুলো মুঠো ভর্তি হওয়ার আগে 

গড়িয়ে নামছিল ঘাসের উপর মহোৎসবে

সে দিনের কান্না ভেজা দুপুর সামলে নিয়েছি

এখন আমার ঘরবাহির খেলা


রোদ আর বৃষ্টির মাঝে ফাঁক এখন অনেক 

মৌসুম বাতাস বুনেছে আগামীর বীজ 

তোমার সাথে দেখা হবে না আরো অনেক অনেক দিন 

তবু বাগানের পাতায় তোমার মুঠো ভর্তি রোদ


ঈর্ষা ফুল 

  

এখনো কেউ জড়িয়ে ধরেনি

অসামান্য আলো পড়েনি মুখে

ঋতভাষ আঁকে নতুন বর্ণমালা

ধারালো প্রতিজ্ঞা, তোমাকে ভালোবেসে 


কেউ ছুঁয়েও দেখেনি পোড়া সেতু 

কিছুক্ষণ আগে যে পেরিয়েছে আমলকি বন

তার পদতলে সমস্ত ইচ্ছে সমর্পিত করে 

জ্বালিয়ে রাখতে পারি অন্তরঙ্গ না পাওয়া


এমন সুযোগ্য দিনে ঈর্ষা তুমি ফুল

সুবাসিত মুহূর্ত চেনায় অন্ধত্ব 

অন্তর্গত ইচ্ছে আগুনে পোড়াও

জড়িয়ে ধরার আগে যেন মগ্নধ্যান হতে পারি


জলরঙ জন্মান্তরে


জেগে আছি মধ্যরাত

বৃষ্টি ধুয়ে দিচ্ছে ত্রিসীমানা 

ধুলোশরীর ভেসে যায় অক্লেশে

মাটির কাছে পুনরুৎসবে


আমার বুকে নিশিপাহাড় 

প্রহর ডাক দিয়ে যায় 

শান্ত দুচোখ খোলা বারান্দা 

পাশাপাশি আরো একাকি দুজন


কাঙ্খা বাগানে কাঙালী শ্রম

ফসলের চোখে আঁকে সহাস্য উৎসব 

নির্জন পাতাঘর দুর প্রদেশের জামা

যত্নে সাজিয়ে রাখি পাতার পাটাতনে 

ভেসে যাব শূন্যমায়া নিবিড় স্রোতে 

ভেজা বৃষ্টির জলরঙ জন্মান্তরে

Comments

Popular posts from this blog

কবি শোভা চন্দ

কবি-প্রাবন্ধিক তাজিমুর রহমান

কবি বৃন্দাবন দাস