কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ


 জাহাঙ্গীর ফিরোজ

জন্ম:-১৯৫৫ সালে। গ্রাম বীরপুশিয়া, থানা ও জেলাঃটাঙ্গাইল। 

শিক্ষাঃ বিএ অনার্স এমএ

বিষয়ঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, প্রতিষ্ঠানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাপেশাঃ সাংবাদিকতা।  বাংলাদেশ প্রেস ইনিস্টিটিউট (পিআইবি)- এর পরিচালক সহ বিভিন্ন পত্রিকায়  বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে দায়িত্ব পালন।কাব্যঃ ১১টি।উল্লেখযোগ্যঃ বদ্ধ মাতাল রোদে ; যে ছিল প্রাণের জরুরি ; চাকরিজীবীদের কোন স্পার্টাকাস নেই ; মৌরি বনের বাতাস; লালনের পাখি উড়ে যায় ; সাগরের গর্জন থেকে নুন রক্তে আসিল ;সন্ন্যাসীর বাঁশির আগুন ; ধাঁধাময় জগৎ সংসার ;কবিতা সমগ্র।পুরষ্কারঃ টাংগাইল সাহিত্য পুরষ্কৃত ; ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পুরষ্কার (কবিতা) ;সম্মাননাঃ জতীয় প্রেসক্লাব লেখক সম্মাননা সহ বাংলাদেশ ও ভারতে বহু সম্মাননা লাভ।ইংরেজি, রুশ,স্পেনিশ, চৈনিক ভাষায় কবিতা অনুবাদ হয়েছে। 


গুচ্ছ কবিতায় 
কবি  জাহাঙ্গীর ফিরোজ


নিমন্ত্রণ 


একটা মানুষ একাই থাকে

মনের বনে একা

যখন ইচ্ছে আসতে পার

নদীর পাড়ে বসতে পার

পেছন ফিরে দেখতে পাবে

বন জুড়ে ফের কেয়া ফুলের ঘ্রাণ

শুনতে পাবে মানভাঙানো

একটি পাখির গান

দেখতে পাবে

ছড়ায় আলো পুরনো চাঁদ একা

আসলে তুমি আবার হবে দেখা।


এখনো আমি একাই আছি

মনের বনে একা

চাইলে তুমি আসতে পার, সখা।



মন ডুবুরি  


কোথায় যেন যাবার কথা

কোথায় যেন যাবো?

 মনের বনে জ্যোৎস্নালোকে

 নীল দিঘিতে নাবো।

 

 জলের তলে

 অথৈজলে

 নীলাকাশের চাঁদ

 ছড়ায় আলো

 মায়ার জালও

 ফাঁদ পেতেছে ফাঁদ।


কোথায় যেন যাবার কথা

কোথায় যেন যাবো?

পথের মাঝে কৃষ্ণসাগর

কোথায় তরী পাবো!


সাঁতরে যাবো সাঁতরে যাবো

সাঁতার ভোলো মন

নামলো জলে  জলের তলে

ডুবুরি এখন।



শ্রাবণ সন্ধ্যায়


সমুদ্রের গর্জন তুমি সেলফোনে পাাঠাতে চেয়েছ

এমন শ্রাবণ ঘন বর্ষায়


তোমার সেলের রিং, তোমার মোহন কণ্ঠের ধ্বনি

ভেসে আসবে ভেসে আসবে ভেবে

ঘুমহীন সারারাত অপেক্ষায় কেটেছে।


তুমি জলপরী, চন্দ্রালোকে সারারাত

ঢেউয়ে ঢেউয়ে জলকেলি সেরেছো খেয়ালে।


উজানে নদীর পাড়ে বটের ছায়ায়

যে প্রেমিক সারাটা বিকেল কাটিয়েছে

একটি মুখের মায়াময় ছবি বুকে নিয়ে

তার কথা এভাবে কী ভুলে যেতে হয়!


এই শ্রাবণ সন্ধ্যায়

সাগরের তীর থেকে যে বাতাস বয়ে এলো উত্তরে

তার সাথে তোমার শরীর থেকে নিয়ে আসা ঘ্রাণ

বুক ভরে টেনে নিয়ে ভেবেছে সে আসঙ্গলিপ্সার কথা

বাতাস মন্থন করে কিন্নরী কণ্ঠের জাদু

শঙ্খে লুকিয়ে রাখা সমুদ্রের গান

শুনেছে সে একা একা।


আজ এই চাঁদহীন  রাতের আঁধারে

বিষন্ন বেলকনি,ততোধিক একা অন্ধকারে ডুবে

শুধুই তোমার মুখচ্ছবি

শুধুই তোমার চোখে

শুধুই তোমার শরীরে

ডুবে যেতে চেয়েছে সে সমুদ্র সম্ভোগে!


কথা ছিল সমুদ্রের গান তুমি শোনাবে আমাকে

এমন শ্রবণ সন্ধ্যায়।






Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক তাজিমুর রহমান

কবি বৃন্দাবন দাস

কবি প্রতাপ সিংহ