কবি সুলেখা সরকার

 

সুলেখা সরকার

সুলেখা সরকার একদিকে যেমন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক অন্যদিকে চিত্রশিল্পী ও 'C/o  দার্জিলিং' এর এডিটর। ১১ বছর তিনি শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলে কর্মরতা ছিলেন। জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশনে মাস্টার্স এবং  রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি রবীন্দ্রসংগীতে  বি.মিউজ সম্পন্ন করেছেন। তার প্রকাশিত একক কবিতা সংকলনগুলি হলো, যে কথার অন্তর্বাস নেই, কবিতায় শুয়ে কাঁদি। এছাড়া যৌথ সংকলন রয়েছে, মগ্ন পদাবলী, কবিতা ক্যাফে, সময়ের সাথে কবিতার কাছে, কাঁটাতারের এপার ওপার ইত্যাদি। সাংবাদিক হিসেবে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ 'সাহিত্য একাডেমী' পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও কবি জয় গোস্বামীর সাক্ষাৎকার। এযাবৎ পাওয়া সম্মাননাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, কবি ও সংগঠক হিসেবে 'বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা' (ত্রিপুরা), 'মাস্টারদা সূর্যসেন স্মারক সম্মান ২০১৯'  (বাংলাদেশ) , 'একুশে স্মৃতি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৯'(বাংলাদেশ),' রামদাস আদক স্মারক সম্মান'( কলকাতা), 'নবনীতা দেব সেন স্মৃতি সম্মান' (কলকাতা), 'সাহিত্যকলা সম্মাননা ২০১৯' (উত্তরবঙ্গ)। কাজ চলছে 'ব্রত কথা' ও 'সুইসাইড দি মেন্টাল ম্যাথ' বই দুটির।


গুচ্ছ কবিতায়
কবি সুলেখা সরকার


নদী / আয়ু


আয়ুর ভেতর যে নদী বয়ে যায় 

তার কপালে লাল সূর্য, আদরের জল ;

জলের ভেতর ভেসে যায় বিবস্ত্র ছাই 

জন্মের কাছে গচ্ছিত থাকে শ্মশান। 

সভ্যতা ভাসিয়ে দিই নদীর চোখে 

যে চোখে অন্য কাদম্বরী স্বপ্ন দেখে। 

জানালার বাইরে শাদা গন্ধ, শবদেহ, 

আসনে তুলে রাখি ধর্ম। 

অরণ্য থেকে বেরিয়ে আসা সরলরেখায় 

যে যে বট ঝুড়ি 

মাটির বুকে অনন্তের সন্ধান করে 

তারা মৃত্যু চেনে না। 

আমি শ্মশান নিয়ে 

সভ্যতা নিয়ে 

ভাষা নিয়ে 

ধ্বংস রোপণে নদী হয়ে যাই।  


মৃত্যু 

 

এই যে জলের মতো পড়ে গেলাম পাহাড় থেকে 

ভেবেছি কি কখনো, জন্ম থেকে যৌবন 

কিভাবে গড়িয়ে যায় ছদ্মবেশ মেখে ; 

কোথায় যাবো এই দীর্ঘ অরণ্যে? 

কান্নায় মানুষ চেনা যায়। 

এই যে সাজগোজ, 

কানপাতায় আরবি কারুকাজ, 

কালো-হলুদ সৌন্দর্য মাখা বেনামী তিল 

এসবের মাঝে উত্তরীয় খুলে দিতে দিতে 

গুছিয়ে নিই তোমায়। 

চলো স্নান সেরে আসি, 

নদী থেকে তুলে দাও মৃত্যু এ মজ্জার।


এই যে হারিয়ে যাচ্ছি, 

সর্বস্ব দিয়েও ফিরতে পারছি না আর, 

তুমি তো জানো, ভালোবাসার কতটা পরিমাপে 

এভাবে মৃত্যু দেওয়া যায়। 


ভার ও সাম্য


খেয়ালের কোন দায়ভার নেই বলে 

ছায়ার ভেতর লুকিয়ে রাখি ভারসাম্য। 

মানুষ থেকে বাদুড় হয়ে যাচ্ছো হেনড্রা মেখে। 

বিসব্রেনের শহরতলীতে ৭০ টি 

মৃতঘোড়া নিয়ে বসে আছি। 

এসো, ভালোবাসায় আক্রান্ত হই,

আয়ার হ্রদে বসে থাকি একা। 

ডার্লিং নদী ডিম পাড়ুক পায়ের কাছটায়।







Comments

Popular posts from this blog

কবি শোভা চন্দ

কবি-প্রাবন্ধিক তাজিমুর রহমান

কবি বৃন্দাবন দাস