কবি অদীপ ঘোষ
জন্ম :১৯৬০ শিক্ষা:-এম-এ-পি এইচ ডি।অধ্যাপক।গবেষণা গ্রন্থ:-লোক ঐত্যিহ্য ও আধুনিক বাংলা কবিতা (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:-চোদ্দটি কবিতা ,প্রবাদী কবিতা ও অন্যান্য, অগ্নিগ্রস্ত অস্ত্বিত্বের আর্তনাদ, কুয়াশা ঘেরা স্বপ্ন, আদিম ভবিষ্যত, আলোকিত ঘুমঘর, নির্বাচিত কবিতা, রক্তক্ষরণের কবিতা,স্বরবর্ণ জলে পড়ে গেছে, মানুষের গন্ধ প্রভৃতি।
বিপ্রতীপ
আঁতুড়ের মহিমায় পাথরের ভেতরে পাহাড়
তরঙ্গের আত্মীয়তা মেনে অনন্ত সমুদ্র ছুঁতে চায়
একই শর্তে বাল্যকাল উঠোনের জমা জলে কাগজের নৌকো নিয়ে অভিযানে ভাসে
ম্যাগেলান জন্ম নেয় ভূগোলের আয়তন বাড়ে
শতাব্দী-প্রাচীন বট সারা গায়ে বীজগন্ধ
সময়ের কানে কানে সবুজ ভাষায় বলে ----- একবার শৈশব ফেরাও
মাধ্যাকর্ষণের স্নেহে রক্তবর্ণ বীজফল মাটিবুকে নেমে শৈশব জাগায়
তিন কাল মাঝে মাঝে এরকম এক হয়ে গেলে তৃষ্ণার্ত উন্মাদগুলো
ঘড়ির কাঁটায় ঝুলে আত্মহত্যা করে
চাঁদের পাঁচালি: ২
জ্যোৎস্নার মায়াস্রোতে মাতালের নৌকোখানা উড়ে গেল পাহাড়-চুড়োয়
যে মহাশূন্যতা নিয়ে চাঁপাবনে চাঁদ শুয়েছিল তার মাপ নিতে গিয়ে
রীতিমতো হিমসিম ধুরন্ধর পন্ডিতের দল
অথচ এ সমস্যার সমাধান ছিল শুঁড়িখানার টেবিলে
যেখানে অজস্র নৌকো স্বেচ্ছাচারী অভিযান সেরে জ্যোৎস্নায় ঠেস দিয়ে দিব্যি ঘুমোচ্ছিল
স্বপ্নময় সেই ঘুম চাঁদের আবেগে ভরপুর
শেষরাতে জ্যোৎস্না যখন প্রায় যায় যায়
তখনই মাতাল তার ডানা মেলে উড়ে যেতে যেতে বলে গেল—
মহাশূন্য মানুষের মাথার মাপেই
তুমি ভেবেছিলে
ছেঁড়াখোঁড়া মেঘগুলো আলপিনে গেঁথে তুমি ভেবেছিলে আষাঢ় নামাবে
সোনালি ফসলে ডুবে যাবে অপুষ্ট আস্তানা তত্ত্বে নয় ভাতের থালায়
অথচ সোনার প্রায় নিরঙ্কুশ দাপটের দিন এলোমেলো বর্ণমালা
ভেবেছিলে অরণ্যের স্বরলিপি এঁকে দেবে শরীরের যাবতীয় কোশে
সেইসব চিত্রমালা প্রাচীন হাওয়ার কাঁধে চেপে দেশে দেশে পৌঁছে যাবে
অথচ সেসব শুধু বালিশের তুলো অ্যাকোরিয়ামের বোকা মাছ
কাচের দেওয়াল যাকে বারবার বলে দেয় এই জলে কোনও নদী নেই
অজস্র সতর্ক বার্তা এভাবেই আমাদের জীবনযাপনে পোড়া ছাই নিরর্থক ধুলো
তোমার ধারণা ছিল সমস্ত রাস্তার শেষে সুন্দরই দাঁড়িয়ে সীমান্তসৈনিক
অপরূপ রূপ নিয়ে কতবার পূর্ণিমার চাঁদ এসে হৃদয় ছুঁয়েছে বোবা আয়নায় তা কখনও
দেখাই যায়নি
Comments
Post a Comment