কবি গোবিন্দ বারিক



গোবিন্দ বারিক

সম্পাদক- ব উ ল পত্রিকা

পেশা-শিক্ষকতা, নেশা- কবিতা, গল্প লেখা।প্রকাশিত কব্যগ্রন্হ- অরন্যের জানালা , শূন্যতা,(মেছেদা সাহিত্য আকাডেমি)। দিগন্তে মর্মর ধ্বনি, (পাঠক)। দ্রাবিড় ধুলোকণার ঔরস।(লিপি প্রকাশন),ছড়াগ্রন্হ- মাটির কোলে আকাশ দোলে।


গুচ্ছ কবিতায়

কবি গোবিন্দ বারিক















বাদলা দুপুর ও গুড়ো-গুড়ো অবসাদ


ভালোবাসার প্রহরগুলো আনন্দে ঝরছে বৃষ্টি

প্রেম আকাশে জমাট বেঁধে বৃষ্টিকণা


দু'টো শালিক ভিজতে ভিজতে ডুবে যাচ্ছে মোহে

আজ সারাদিন শুধু বৃষ্টির গান

রাগ, বিষাদ, বেদনা, অভিমান ভাসিয়ে দিয়েছি

জলস্রোতে, সংসারে, ভালোলাগার ঘাইমুয়ানে...


খেদাক্ত দিনগুলো অন্তরে পুষে রেখেছ

রান্নায় মিশিয়ে দিচ্ছ বাদলার গুড়ো-মিহি অবসাদ, খুন্তির ঠনঠন শব্দে তীব্র দহনজ্বালা,

অভিযোগগুলো ভাজা হচ্ছে গুমরানো দাহে, অথচ জানালায় বৃষ্টির সুরে সুরে সুরে প্রেম ও মোহ ঢেউ তুলেছে জোনাকি-মন।


আসলে বয়স ভুলে যায় পরিযায়ী প্রেমকথা

শুধু একটা বাদলা দুপুর ভাসতে চায় বুনোঘাসে...


পথ,পথিক


রজ্জুতে পড়েছে টান

ভক্তেরা সমস্বরে ডাকছে জয় জগন্নাথ সুভদ্রা জয় বলরাম আমি ধরে আছি আস্হার হাত, ভিড়ের চাপে বাবাও আঁকড়ে আছে আমার জিজ্ঞাসু-হৃদয়


যে-পথ ভক্তি ও বিশ্বাস-জারিত

যে-পথ আলো ও জগন্নাথ

যে-পথ শ্রী চৈতন্য ও সালবেগ


যে-পথে লুটিয়ে পড়ে আবেগ,

 বিশ্বাসের রামধনু 

যে-পথে মানুষ হেঁটে যায় আশ্চর্য সংযম-মুদ্রায়


কষ্ট, দারিদ্র্য, তুচ্ছ জাতি-ধর্ম লোকারণ্যের মাঝে

চাতক ঈশ্বর খুঁজে নেয় জ্যোৎস্না পথিক


যে-পথিক কখনো কোনো ধর্মের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে না..


পর্যবেক্ষণ


স্কুল থেকে ফেরার পথের বাঁকে মসজিদের পাশে চণ্ডীর থানের চৌহদ্দিতে বঙ্কিম 

জেঠার বাড়ি।দেখা হলে প্রণাম সেরে বললাম, 'ভালো আছো'। তাঁর উদাস চোখের পাতায় সন্ধ্যার হতাশা। 

ফুলে উঠা কপালের শিরার থেকে অনেক উপশিরা যেন সংসারের নাতি-নাতনি। পাঁচির ভেতর লাঙ্গলের ফলার

মতো পেশির উপর কালো রগ যেন হোয়াংহো নদীর গতিপথ


তাঁর কপালে বাঁক নেওয়া ধনুকের ভ্রূ-তে হরধনু ভঙ্গের 

প্রতিজ্ঞার ছায়া। কোমরের ভাঁছে ঝুলছে নতজানু সংসার। ক্রীতদাসী দৃষ্টিতে আত্মভোলা গবেষকের পর্যবেক্ষণ।


শুভাকাঙ্খী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ছেলেরা কি আর তোমাকে দেখে না?' দীর্ঘশ্বাস...

'থাক আমার কথা।বল, তুমি কেমন আছো?' সপাটে চড় মারার মতো আমার দেহে নীল নদের দু'কুল প্লাবিত বান বয়ে গেলো যেভাবে এখন জেঠার দু'চোখে বয়ে চলেছে কপালেশ্বরী।


তাঁর লাঙ্গলের হাত,কোদালধরা কব্জি, আঙুলে দা-এর উত্তাপ আমাকে স্পর্শ মাত্র সারা শরীর জুড়িয়ে গেল পেলবতায় গ্রাম্যতায় সবুজতায়


তাঁর জ্যোৎস্না-চোখে বিলিন জোনাকি, আমার গ্রাম্য অধিকারবোধ আরোও নাড়া দেয়। আমার কবিকন্ঠ নত হয়ে বলে, 'জেঠা আমি তোমার মতো মানুষ হব, মাথায় আমার হাত ঠেকাও'।





Comments

  1. বিশেষ করে পথ ও পথিক খুব ভালো।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি শোভা চন্দ

কবি-প্রাবন্ধিক তাজিমুর রহমান

কবি বৃন্দাবন দাস