কবি উমা বন্দোপাধ্যায়


 উমা বন্দোপাধ্যায়

জন্ম:- ১৯৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায়। ছেলেবেলা কেটেছে বর্ধমান জেলার রূপনারায়ণপুরে। সাহিত্যের ছাত্রী উমা ছোটবেলা থেকেই কবিতার অনুরাগী । প্রথম কবিতা প্রকাশ হয় ১৭ বছর বয়সে ।  ইংরেজি কবিতার অনুবাদের শুরু কম বয়স থেকেই । স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক , তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ -এ ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর । ১৯৯৬ তে  প্রথম বই , কবিতা সংকলন ' হৃদপিণ্ড শব্দ খোলে ' । পরবর্তীতে ১৯৯৭ তে ছোটগল্প সংকলন ' ছায়াময় ও দু-একটি মানুষ ,  চেনামুখের ধারাভাষ্য ' ২০১৩ তে প্রকাশিত হয় । ২০১৭ য় প্রকাশ হয় কবিতা সংকলন 'জারুলের নিচে সন্ধ্যা '  আর গল্প সংকলন ' রম্যগীতির দিনগুলি '।উমা কিছু অনুবাদের কাজও করেছেন । সাম্প্রতিককালে  কবি অগ্নি বসুর ইংরেজি কবিতার অনুবাদসহ Frozen Music বইটি প্রকাশিত হয়েছে।


গুচ্ছ কবিতায়
কবি উমা বন্দোপাধ্যায়


গতিপথ

নদী হতে হতে আমি  সাগরের দিকে চলে যাই।

সমুদ্র  লবণজল চারিদিকে ঢেউ হয়ে ভাঙে

ভেঙে দেয় শরীরের গুণগান হৃদয়ের স্থির অভ্যাস 

ঝিনুক ঝিনুক হয়ে অতল গভীরে ব্যথা মাখে।

গর্ভজলে ভেসে ভেসে জন্মকাল মুক্তো হয়ে ডাকে

চুপকথা প্রবালপ্রাচীরে লিখে দেয় লাল তিলগুলি

আমি বিস্মৃতি ভেঙে সরল নীরব রেখা

লিখে রাখি বালুতট জুড়ে নিঃশব্দে খুব একা একা

অনেক গভীরে বিচিত্র বর্ণের মাছ গতিপথে ভাঙে নিজেকেও

ওরা শ্রম জানে ভ্রম জানে জানে বিচ্যুতি ও

নৈঃশব্দের ভাষা জানে স্নানরত মৎস্যকন্যা একা

শরীর শৃঙ্খলা  ভেঙে জলের সোহাগ বুঝে নিতে

শিখেছে নির্জন সাধনে , শিখেছে মন্ত্রহীন অন্ধকারে আলোর মায়ায় সাগরের গুপ্তকক্ষে নীলেরও অতলে কালোয়...


গান


তুমি যদি ভালো

            তবে সকলেই ভালো ।

একথা বলেছে নদী, রোদ, জনপদ

                                 এবং শস্যকণা ।

অনেক রোদের দিনে

বাতাসের কথা নাকি গান হয়ে জাগে ...

নদী শোনে---

মুখরিত দিন, ঠোঁটে নিয়ে নিত্যকার খুঁটিনাটি--

শালিক, চড়ুই আর মাছরাঙা শোনে...

জেলে-ডিঙি নদী-বুকে

                       এই গান গেয়ে যায়,

ছুঁয়ে  যায় অপসৃত  মাঠ- বন- ক্ষেতের ফসল ।

এই গানই বুকে নিয়ে

                 বেড়ে ওঠে অন্ধ যুবতী.....

 

শরতে


তোমার সাথে আমার দেখা কাশের বনে ।

সেখানে এক বিরহকাল প্রহর গোনে ।

সৃষ্টি ঝরে বৃষ্টি বিহীন মৌন সাজে ;

তোমার সাদায় আমার রঙীন লুকিয়ে বাজে।

খোলা চুলের সরলতায় মেঘের ছায়া;

হরিণী ভয় জড়ায় গতিপথের মায়া ।

খেলার সাথী নদীই ডাকে অন্তঃপুরে;

কাশের বনে জলের গানই বেড়ায় ঘুরে ।

অনেক দূরে দিগন্তলীন গাছের সারি।

ডাকলে তুমি ? হোক অবেলা ,যেতেও পারি

কাশের বনে  হাতটি তোমার আমার হাতে;

অথচ এক বিরহকাল লুকিয়ে কাঁদে।

তবুও কোন বাঁশির সুরে অবোধ খেলা

কাশের বনে অন্যমনে সক




Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক তাজিমুর রহমান

কবি বৃন্দাবন দাস

কবি প্রতাপ সিংহ