কবি-অনুবাদক জ্যোতির্ময় দাশ
জন্ম:- ৪ আগস্ট ১৯৪০।ষাটের দশকের কবি, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক! প্রকাশিত গ্রন্থ : ৪৫।সম্পাদিত পত্রিকা:ইন্দ্রপ্রস্থ(দিল্লি), দুর্গাবাডি বার্ষিকী (জয়পুর), পদক্ষেপ, মিলেমিশ(কলকাতা)। পুরস্কার: পশ্চিমবঙ্গ বাঙলা আকাডেমির চন্দ্রবরদাঈ পুরস্কার।সম্মাননা : লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্রের সারস্বত সম্মান(অনুবাদ)। বাংলাদেশ, নরওয়ে, সুইডেন ও ফরাসি দেশের আন্তর্জাতিক সাহিত্য সেমিনারে আমন্ত্রিত ভারতীয় কবি হিসেবে যোগদান।সাহিত্য অকাদেমি ও ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ইন্ডিয়ার স্বীকৃত অনুবাদক এবং নিরীক্ষক।
কবি ঋষি নগ্নমুনি-র কবিতার অনুবাদে:-কবি-অনুবাদক জ্যোতির্ময় দাশ
প্রকৃত নাম মানেপল্লী ঋষি কেশব রাও। তেলেগু ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কবি ও কথা সাহিত্যিক। যাঁর জন্ম ১৯৪০। দিগম্বর কাব্য-আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা।১৯৭৭ সালে এক বিদেশি সামুদ্রিক তুফানে অন্ধ্রপ্রদেশের সমুদ্র উপকূলের বহু জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং প্রায় কুড়ি হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ঋষি নগ্নমুনি ১২টি স্তবকে ৫১০ পংক্তির একটি কবিতা লেখেন যা তেলেগু সাহিত্যে মহাকাব্যের খ্যাতি অর্জন করে। এখানে সেই কাব্যের সপ্তম ও অষ্টম স্তবকটি অনূদিত হলো।
কাঠের ঘোড়া
সমস্ত ঘোড়ারাই তীব্র গতি, বিশ্বস্ততা বিজয়
আর প্রশাসনিক শক্তির অলীক নিদর্শন।
একটা কাঠের ঘোড়া স্থবিরত্ব,নির্বুদ্ধিতা,অজ্ঞানতা,আত্মম্ভরিতা ঋদ্ধ অকর্মণ্য এক সরকারের প্রতীক।
জীবন ঘোড়ার হৃদয়
নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে চোখের জলে,
অন্যদিকে কাঠের ঘোড়া এক অচল
পয়সার মত নিষ্ফল হ্রেষাধ্বনি করে।
কাঠের ঘোড়ার পা পড়ে না মাটিতে,
সে অর্থগর্বের কৌলিক আভিজাত্যে লোহার
নাল বাঁধানো খুর আর প্লাস্টিকের হৃদয় নিয়ে
ঘুরে বেড়ায় গরিবদের কাঁধে চেপে
তার ওজনের ভারে বিব্রত তুমি
মাথা তোলো যদি,
ক্ষিপ্ত হ্রেষাধ্বনিতে সে তোমাকে
চূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।
প্রশাসন একটা কাঠের ঘোড়ায় চেপে
কাঠের তরোয়াল ঘোরাতে থাকে
মন্দিরের গায়ে খোদাই করা অশ্লীল মূর্তিদের মতো।
(৭ম স্তবক)
কাঠের ঘোড়া
যিশু জানতেন শেষ ভোজনের রাতে
কে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাঁর সঙ্গে।
আমি জানতাম বহু কুটির ছিল এই সমুদ্রের তীরে। কিছু উইঢিপি ছিল সেই সব কুটিরের কাছেই। কেউটের বাসা ছিল কোন কোন উইঢিপির গর্তে। তীব্র গরল ছিল তাদের উদ্যত ফণায়।
আমি জানতাম কেউটেরা অপেক্ষায় ছিল ঢেউয়ের আড়ালে,
মে হাত তাদের দুধ খাওয়াত তাকে ছোবল মারতে।
আমি জানি হত্যাকারী কারা।
কিন্তু আপাতত এই সময়ে
আমি অভিযুক্ত করছি সমুদ্রকে তার জন্য।
তুমি যখন ঘুমিয়ে থাকো স্বপ্নেরা সেসময়
চোখের মনি দুটিকে কামড়ায়।
(৮ম স্তবক সংক্ষেপিত)
Comments
Post a Comment